বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ এএম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন

রাজনীতি ডেস্ক: গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ফলাফল অনিশ্চিত থাকা এবং পরাজিত পক্ষের তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা। রাজনীতিবিজ্ঞানে একে পরাজিতের সম্মতি বলা হয়ে থাকে, যা ছাড়া কোনো নির্বাচন অর্থবহ হতে পারে না। এছাড়া ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হাতবদল নিশ্চিত করতে দুটি নির্বাচন পরিক্রমার সফলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা কে পালন করবে, তা নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে বেশ কিছু নতুন ধারণা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করে সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব অন্যতম। কেউ কেউ উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি বা স্পিকারকে সরকারপ্রধান করার মতো মতামতও দিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। মূলত সংসদের বাইরে আলোচিত এই ধারণাগুলো জনমনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধান বহাল রাখায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে এই সরকার গঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপি পুরোনো ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামোতে ফেরার পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্য কয়েকটি দল নতুন কোনো পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। অতীতে উচ্চকক্ষকেন্দ্রিক এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হলেও তাতে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে একই প্রস্তাব ভিন্ন আঙ্গিকে পুনরায় উত্থাপন করায় নতুন করে মতভেদের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উচ্চকক্ষভিত্তিক প্রস্তাবের বাস্তবায়নে বড় একটি কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে, কারণ বাংলাদেশে এখনো এমন কোনো উচ্চকক্ষ বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠনপদ্ধতি নিয়েই যেখানে মতপার্থক্য রয়েছে, সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো অত্যন্ত জরুরি একটি ব্যবস্থাকে অনিশ্চিত প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়। এছাড়া দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্বাচন করা হলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি জোরালোভাবে সামনে চলে আসে। অতীতে পরীক্ষিত ও সফল এই ব্যবস্থা বাদ দিয়ে নতুন কোনো জটিল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দৈনিক প্রভাতী

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজনীতি ডেস্ক: গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ফলাফল অনিশ্চিত থাকা এবং পরাজিত পক্ষের তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা। রাজনীতিবিজ্ঞানে একে পরাজিতের সম্মতি বলা হয়ে থাকে, যা ছাড়া কোনো নির্বাচন অর্থবহ হতে পারে না। এছাড়া ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হাতবদল নিশ্চিত করতে দুটি নির্বাচন পরিক্রমার সফলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা কে পালন করবে, তা নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে বেশ কিছু নতুন ধারণা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করে সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব অন্যতম। কেউ কেউ উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি বা স্পিকারকে সরকারপ্রধান করার মতো মতামতও দিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। মূলত সংসদের বাইরে আলোচিত এই ধারণাগুলো জনমনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধান বহাল রাখায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে এই সরকার গঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপি পুরোনো ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামোতে ফেরার পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্য কয়েকটি দল নতুন কোনো পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। অতীতে উচ্চকক্ষকেন্দ্রিক এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হলেও তাতে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে একই প্রস্তাব ভিন্ন আঙ্গিকে পুনরায় উত্থাপন করায় নতুন করে মতভেদের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উচ্চকক্ষভিত্তিক প্রস্তাবের বাস্তবায়নে বড় একটি কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে, কারণ বাংলাদেশে এখনো এমন কোনো উচ্চকক্ষ বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠনপদ্ধতি নিয়েই যেখানে মতপার্থক্য রয়েছে, সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো অত্যন্ত জরুরি একটি ব্যবস্থাকে অনিশ্চিত প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়। এছাড়া দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্বাচন করা হলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি জোরালোভাবে সামনে চলে আসে। অতীতে পরীক্ষিত ও সফল এই ব্যবস্থা বাদ দিয়ে নতুন কোনো জটিল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন
0:00 / 0:00
1x