সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১৩ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ এএম

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে
এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

শিক্ষা ডেস্ক: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন গ্রামীণ অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শহরের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ফলাফল করলেও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘ আট বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই বোর্ডের গড় পাসের হার অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের গ্রামীণ কলেজগুলোতে শিক্ষার মান আশানুরূপভাবে উন্নত হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, রাজশাহী বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় উপজেলাগুলোর কলেজগুলোতে পাসের হার অনেক নিচে নেমে গেছে। এর ফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনের কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজশাহী বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার নয়টি উপজেলার সরকারি কলেজগুলোর গড় পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা দেখা গেছে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই কলেজ থেকে অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন এবং একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এছাড়া বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার সামান্য বেশি হলেও তা বোর্ডের গড়ের নিচে রয়েছে, যা ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে তানোরের সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই কলেজে চার শতাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে বড় একটি অংশ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ফলাফলকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক মনে করছেন না প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোস্তফা কামাল হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই ফলাফল তাদের আনন্দিত করেনি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

তবে এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের মাঝেও কয়েকটি কলেজ তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। এর মধ্যে চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন। এই কলেজে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারকে ছাড়িয়ে গেছে। এখান থেকে শতাধিক পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সফল হয়েছেন। এছাড়া মোহনপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। এই তুলনামূলক ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি কলেজ ভালো করলেও বেশিরভাগ উপজেলা কলেজেই চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব সফল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো অন্যান্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে শিক্ষাবিদেরা নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

গ্রামীণ কলেজগুলোর এই ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষবিমুখতাকে প্রধানত দায়ী করছেন। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন নিয়মিত ক্লাস করলেও দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করার পর থেকেই তারা শ্রেণিকক্ষ বিমুখ হয়ে পড়ে। তারা স্কুল-কলেজের ক্লাসের পরিবর্তে কোচিং সেন্টার এবং ব্যক্তিগত প্রাইভেটের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের বারবার অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় না। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছরে স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন, কিন্তু তাদের বিপরীতে নতুন কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজগুলোতে নিয়মিত ও যথাযথ পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির এই দুই সংকটের বেড়াজালে গ্রামীণ পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দৈনিক প্রভাতী

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শিক্ষা ডেস্ক: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন গ্রামীণ অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শহরের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ফলাফল করলেও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘ আট বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই বোর্ডের গড় পাসের হার অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের গ্রামীণ কলেজগুলোতে শিক্ষার মান আশানুরূপভাবে উন্নত হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, রাজশাহী বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় উপজেলাগুলোর কলেজগুলোতে পাসের হার অনেক নিচে নেমে গেছে। এর ফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনের কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজশাহী বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার নয়টি উপজেলার সরকারি কলেজগুলোর গড় পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা দেখা গেছে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই কলেজ থেকে অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন এবং একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এছাড়া বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার সামান্য বেশি হলেও তা বোর্ডের গড়ের নিচে রয়েছে, যা ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে তানোরের সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই কলেজে চার শতাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে বড় একটি অংশ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ফলাফলকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক মনে করছেন না প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোস্তফা কামাল হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই ফলাফল তাদের আনন্দিত করেনি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

তবে এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের মাঝেও কয়েকটি কলেজ তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। এর মধ্যে চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন। এই কলেজে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারকে ছাড়িয়ে গেছে। এখান থেকে শতাধিক পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সফল হয়েছেন। এছাড়া মোহনপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। এই তুলনামূলক ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি কলেজ ভালো করলেও বেশিরভাগ উপজেলা কলেজেই চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব সফল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো অন্যান্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে শিক্ষাবিদেরা নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

গ্রামীণ কলেজগুলোর এই ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষবিমুখতাকে প্রধানত দায়ী করছেন। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন নিয়মিত ক্লাস করলেও দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করার পর থেকেই তারা শ্রেণিকক্ষ বিমুখ হয়ে পড়ে। তারা স্কুল-কলেজের ক্লাসের পরিবর্তে কোচিং সেন্টার এবং ব্যক্তিগত প্রাইভেটের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের বারবার অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় না। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছরে স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন, কিন্তু তাদের বিপরীতে নতুন কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজগুলোতে নিয়মিত ও যথাযথ পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির এই দুই সংকটের বেড়াজালে গ্রামীণ পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে
0:00 / 0:00
1x