রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

তিস্তা চুক্তির আশা বাদ দিতে হবে


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১৪ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ এএম

তিস্তা চুক্তির আশা বাদ দিতে হবে
তিস্তা চুক্তির আশা বাদ দিতে হবে

জাতীয় ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা একপ্রকার শেষ বললেই চলে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই চুক্তি কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাত দেখানো হলেও মূলত তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নদী সংযোগ প্রকল্পের কারণেই এই চুক্তি আলোর মুখ দেখছে না। ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।

উজানে ভারতের বিভিন্ন একতরফা পদক্ষেপের কারণে তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভারত গজলডোবা বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি করে শুষ্ক মৌসুমে সম্পূর্ণ পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ডিমলা, জলঢাকা, রংপুর ও গাইবান্ধা সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ৫ হাজারের বেশি গ্রামের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু সেচ কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সমগ্র ভাটি এলাকায় ধীরে ধীরে মরূকরণের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নদীর পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে এবং তিস্তা অববাহিকার জীববৈচিত্র্য আজ ধ্বংসের মুখে। একসময়ের প্রমত্তা তিস্তা নদী এখন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পানিশূন্য হয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে করতোয়া, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী ও বুড়িতিস্তাসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোর ওপরও। ফলস্বরূপ, হাজার হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে এবং নদীকেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীবন বিলুপ্তির পথে চলে গেছে।

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভারত একতরফাভাবে নদীর পানি সরিয়ে নিলেও বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে এর কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছে না। তাই এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ডালিয়া পয়েন্ট থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার নদীর প্রশস্ততা কমিয়ে এবং শাখানদীগুলো খনন করে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। নিজেদের নদী বাঁচানোর দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে, কারণ প্রতিবেশী দেশের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে দেশের উত্তরাঞ্চল সম্পূর্ণ পানিশূন্য হয়ে পড়বে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দৈনিক প্রভাতী

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


তিস্তা চুক্তির আশা বাদ দিতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা একপ্রকার শেষ বললেই চলে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই চুক্তি কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাত দেখানো হলেও মূলত তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নদী সংযোগ প্রকল্পের কারণেই এই চুক্তি আলোর মুখ দেখছে না। ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।

উজানে ভারতের বিভিন্ন একতরফা পদক্ষেপের কারণে তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভারত গজলডোবা বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি করে শুষ্ক মৌসুমে সম্পূর্ণ পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ডিমলা, জলঢাকা, রংপুর ও গাইবান্ধা সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ৫ হাজারের বেশি গ্রামের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু সেচ কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সমগ্র ভাটি এলাকায় ধীরে ধীরে মরূকরণের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নদীর পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে এবং তিস্তা অববাহিকার জীববৈচিত্র্য আজ ধ্বংসের মুখে। একসময়ের প্রমত্তা তিস্তা নদী এখন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পানিশূন্য হয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে করতোয়া, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী ও বুড়িতিস্তাসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোর ওপরও। ফলস্বরূপ, হাজার হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে এবং নদীকেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীবন বিলুপ্তির পথে চলে গেছে।

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভারত একতরফাভাবে নদীর পানি সরিয়ে নিলেও বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে এর কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছে না। তাই এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ডালিয়া পয়েন্ট থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার নদীর প্রশস্ততা কমিয়ে এবং শাখানদীগুলো খনন করে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। নিজেদের নদী বাঁচানোর দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে, কারণ প্রতিবেশী দেশের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে দেশের উত্তরাঞ্চল সম্পূর্ণ পানিশূন্য হয়ে পড়বে।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
তিস্তা চুক্তির আশা বাদ দিতে হবে
0:00 / 0:00
1x