মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়
মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়

অর্থনীতি ডেস্ক: জাপানের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডোরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই বন্দরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের বড় পরিসরের ট্রানজিট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঠিক কী ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বা প্রতিদান পাবে, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহင် মনে করছে, অপরিকল্পিত বা একপাক্ষিক চুক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত শিল্প মূল্য শৃঙ্খল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা। তবে বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কীভাবে ভাগ হবে এবং এর প্রকৃত সুফল কারা ভোগ করবে—সে বিষয়ে এখনো যথেষ্ট রাখঢাক রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অবকাঠামোর ব্যয় ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহন করতে হয় ছোট দেশকে, অথচ কৌশলগত সুবিধা পেয়ে থাকে বড় প্রতিবেশী। ফলে এই বন্দরটি যেন কোনোভাবেই একতরফা আধিপত্যের হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

জাপান সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশাল অংকের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ কী ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত সুবিধা পাবে, তা চুক্তিতে পরিষ্কার করা জরুরি। বন্দরের ফি, পরিবহন মাশুল, গুদামভাড়া এবং লজিস্টিকস খাতের আয় যেন দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা যাতে এই বাণিজ্যের যথাযথ সুফল পান, সেই ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করলেই দেশে শিল্পায়ন ঘটে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনে বিনিয়োগ। তাই পণ্যের ধরন নির্ধারণ, পরিদর্শন প্রক্রিয়া, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকতে হবে। সরকার ও নীতিনির্ধারক মহলের উচিত যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা এবং পুরো অর্থায়ন ও ট্রানজিট পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

ঢাকায় পর্যটন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার, অংশগ্রহণে ২০টিরও বেশি দেশ

ঢাকায় পর্যটন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার, অংশগ্রহণে ২০টিরও বেশি দেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন চার ধাপে, ১ নভেম্বর শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন চার ধাপে, ১ নভেম্বর শুরু

এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

গ্রিড বিপর্যয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সচিবালয়সহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক এলাকা

গ্রিড বিপর্যয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সচিবালয়সহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক এলাকা

ডিএসইতে সূচকের পতন ও কমল লেনদেন

ডিএসইতে সূচকের পতন ও কমল লেনদেন

জাল সনদে চাকরি: প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জাল সনদে চাকরি: প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন, মব নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন, মব নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ইসলামী ব্যাংকের এক শাখা থেকেই ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের নামে মামলা

ইসলামী ব্যাংকের এক শাখা থেকেই ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের নামে মামলা

মাও সে–তুংকে নিয়ে ‘রসিকতা’, চীনে বিপাকে এমবাপ্পে

মাও সে–তুংকে নিয়ে ‘রসিকতা’, চীনে বিপাকে এমবাপ্পে

টেসলার রোডস্টারের আন্ডারবডি প্রকল্পে কাজ করেছেন বুয়েটের তারেক

টেসলার রোডস্টারের আন্ডারবডি প্রকল্পে কাজ করেছেন বুয়েটের তারেক

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অর্থনীতি ডেস্ক: জাপানের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডোরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই বন্দরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের বড় পরিসরের ট্রানজিট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঠিক কী ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বা প্রতিদান পাবে, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহင် মনে করছে, অপরিকল্পিত বা একপাক্ষিক চুক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত শিল্প মূল্য শৃঙ্খল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা। তবে বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কীভাবে ভাগ হবে এবং এর প্রকৃত সুফল কারা ভোগ করবে—সে বিষয়ে এখনো যথেষ্ট রাখঢাক রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অবকাঠামোর ব্যয় ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহন করতে হয় ছোট দেশকে, অথচ কৌশলগত সুবিধা পেয়ে থাকে বড় প্রতিবেশী। ফলে এই বন্দরটি যেন কোনোভাবেই একতরফা আধিপত্যের হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

জাপান সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশাল অংকের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ কী ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত সুবিধা পাবে, তা চুক্তিতে পরিষ্কার করা জরুরি। বন্দরের ফি, পরিবহন মাশুল, গুদামভাড়া এবং লজিস্টিকস খাতের আয় যেন দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা যাতে এই বাণিজ্যের যথাযথ সুফল পান, সেই ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করলেই দেশে শিল্পায়ন ঘটে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনে বিনিয়োগ। তাই পণ্যের ধরন নির্ধারণ, পরিদর্শন প্রক্রিয়া, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকতে হবে। সরকার ও নীতিনির্ধারক মহলের উচিত যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা এবং পুরো অর্থায়ন ও ট্রানজিট পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মাতারবাড়ী বন্দর যেন ভারতের স্বার্থে না হয়
0:00 / 0:00
1x