মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ এএম

ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো
ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো

সারাদেশ ডেস্ক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী এবং নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নদী পারাপারের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এই পারাপার প্রক্রিয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

প্রতিনিয়ত এই যাতায়াত সংকট চলতে থাকায় এবং সরকারি কোনো উদ্যোগের দেখা না মেলায় এলাকাবাসী নিজেরাই এর একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা শুরু করেন। জনগণের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায় ২৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ হাতে নেন। স্থানীয় বাসিন্দা এয়াকুব মজুমদার, নাজমুল হোসেন, আবদুল মান্নান এবং অলি আহমেদের সরাসরি নেতৃত্বে এই স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

উদ্যোক্তাদের একজন এয়াকুব মজুমদার জানিয়েছেন যে, জনসাধারণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান এবং নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নিরাপদ ও সহজ করা। স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেনের মতে, এই স্থানে যদি একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা যায়, তবে তা শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতই সুগম করবে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান যে, নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন বহু শিশু নানা কষ্ট সহ্য করে তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাঁশের এই সাঁকোটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী হলেও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জনবহুল পয়েন্টে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সারাদেশ ডেস্ক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী এবং নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নদী পারাপারের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এই পারাপার প্রক্রিয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

প্রতিনিয়ত এই যাতায়াত সংকট চলতে থাকায় এবং সরকারি কোনো উদ্যোগের দেখা না মেলায় এলাকাবাসী নিজেরাই এর একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা শুরু করেন। জনগণের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায় ২৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ হাতে নেন। স্থানীয় বাসিন্দা এয়াকুব মজুমদার, নাজমুল হোসেন, আবদুল মান্নান এবং অলি আহমেদের সরাসরি নেতৃত্বে এই স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

উদ্যোক্তাদের একজন এয়াকুব মজুমদার জানিয়েছেন যে, জনসাধারণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান এবং নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নিরাপদ ও সহজ করা। স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেনের মতে, এই স্থানে যদি একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা যায়, তবে তা শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতই সুগম করবে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান যে, নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন বহু শিশু নানা কষ্ট সহ্য করে তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাঁশের এই সাঁকোটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী হলেও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জনবহুল পয়েন্টে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ডাকাতিয়ায় সেতু নেই, স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো
0:00 / 0:00
1x