মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

১২ বছরে গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ কমেছে ৯ শতাংশ


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

১২ বছরে গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ কমেছে ৯ শতাংশ
১২ বছরে গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ কমেছে ৯ শতাংশ

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গত এক দশকে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বাড়লেও কৃষিখাতের হিস্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএস এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা আইএফপিআরআই-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে এই তথ্য উঠে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ মানুষের আর্থিক প্রবণতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী কৃষিঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। মূলত নতুন ব্যবসা শুরু, ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং নানাবিধ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই গ্রামীণ ঋণের গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে।

অনুষ্ঠিত ওই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিআইডিএসের গবেষকরা জানান, ২০১০ সালে গ্রামীণ অঞ্চলের ৩৬ শতাংশ পরিবার ঋণ গ্রহণ করত, যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০২২ সালে প্রায় ৪২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এক দশক আগে এসব ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল কৃষির জন্য, যা বর্তমান সময়ে কমে মাত্র ১৬ শতাংশে ঠেকেছে। অর্থাৎ গত বারো বছরের ব্যবধানে গ্রামীণ ঋণে কৃষির হিস্যা প্রায় নয় শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোর ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতাও কমেছে, এবং ব্যাংক ঋণ নেওয়ার হার ৪.৭ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ২.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে গ্রামের মানুষ তাদের প্রয়োজনের সিংহভাগ ঋণই বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও থেকে গ্রহণ করে থাকে।

এদিকে ঋণের ব্যবহার ও পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির বিষয়ে সংলাপে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঋণগ্রহীতাদের সিংহভাগ অর্থই মূলত সার ক্রয়ের মতো কৃষি উপকরণের পেছনে ব্যয় হচ্ছে, যা ২০১০ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণ পরিশোধের আর্থিক চাপও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪১ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিবার তাদের মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই ব্যয় করছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পর্যাপ্ত ব্যাংকঋণের অভাব রয়েছে বলে আইএফপিআরআইয়ের উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়। কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হলেও ব্যাংকগুলো থেকে মাত্র দুই থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে কৃষকদের আত্মীয়স্বজন, এনজিও কিংবা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। সংলাপে উপস্থিত অতিথিরা জানান, এনজিওর উচ্চ সুদের কারণে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং উপকরণের দাম বাড়ায় মুনাফা কমে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডসহ নানা সুবিধার কথা জানানো হলেও, কৃষি খাতের সার্বিক উৎপাদনশীলতা ও ব্যাংক অর্থায়ন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


১২ বছরে গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ কমেছে ৯ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গত এক দশকে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বাড়লেও কৃষিখাতের হিস্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএস এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা আইএফপিআরআই-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে এই তথ্য উঠে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ মানুষের আর্থিক প্রবণতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী কৃষিঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। মূলত নতুন ব্যবসা শুরু, ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং নানাবিধ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই গ্রামীণ ঋণের গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে।

অনুষ্ঠিত ওই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিআইডিএসের গবেষকরা জানান, ২০১০ সালে গ্রামীণ অঞ্চলের ৩৬ শতাংশ পরিবার ঋণ গ্রহণ করত, যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০২২ সালে প্রায় ৪২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এক দশক আগে এসব ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল কৃষির জন্য, যা বর্তমান সময়ে কমে মাত্র ১৬ শতাংশে ঠেকেছে। অর্থাৎ গত বারো বছরের ব্যবধানে গ্রামীণ ঋণে কৃষির হিস্যা প্রায় নয় শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোর ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতাও কমেছে, এবং ব্যাংক ঋণ নেওয়ার হার ৪.৭ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ২.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে গ্রামের মানুষ তাদের প্রয়োজনের সিংহভাগ ঋণই বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও থেকে গ্রহণ করে থাকে।

এদিকে ঋণের ব্যবহার ও পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির বিষয়ে সংলাপে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঋণগ্রহীতাদের সিংহভাগ অর্থই মূলত সার ক্রয়ের মতো কৃষি উপকরণের পেছনে ব্যয় হচ্ছে, যা ২০১০ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণ পরিশোধের আর্থিক চাপও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪১ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিবার তাদের মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই ব্যয় করছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পর্যাপ্ত ব্যাংকঋণের অভাব রয়েছে বলে আইএফপিআরআইয়ের উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়। কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হলেও ব্যাংকগুলো থেকে মাত্র দুই থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে কৃষকদের আত্মীয়স্বজন, এনজিও কিংবা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। সংলাপে উপস্থিত অতিথিরা জানান, এনজিওর উচ্চ সুদের কারণে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং উপকরণের দাম বাড়ায় মুনাফা কমে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডসহ নানা সুবিধার কথা জানানো হলেও, কৃষি খাতের সার্বিক উৎপাদনশীলতা ও ব্যাংক অর্থায়ন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
১২ বছরে গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ কমেছে ৯ শতাংশ
0:00 / 0:00
1x