মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

সারা দুনিয়ায় ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়াতে কেন ২০১৯ সাল


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

সারা দুনিয়ায় ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়াতে কেন ২০১৯ সাল
সারা দুনিয়ায় ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়াতে কেন ২০১৯ সাল

বিশ্বের সিংহভাগ দেশ যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে সময় গণনা করছে, তখন আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ইথিওপিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যে দাবি করা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট সাল চললেও ইথিওপিয়ার নিজস্ব সময় গণনার পদ্ধতি অনুযায়ী তারা কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির নিজস্ব এই সময় কাঠামো নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মূলত ঐতিহ্যবাহী গিজ ক্যালেন্ডার ব্যবহারের কারণেই এই ভিন্নতা তৈরি হয়েছে, যা প্রাচীন কপটিক ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ইথিওপিয়ায় যিশু খ্রিষ্টের জন্মসনকে পশ্চিমা বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় সাত থেকে আট বছর পরের হিসাব হিসেবে ধরা হয়। প্রাচীন রোমান চার্চ তাদের সময় গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলেও ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চ যুগ যুগ ধরে তাদের প্রাচীন হিসাব পদ্ধতিই বজায় রেখে চলেছে। দীর্ঘ ইতিহাসে কখনো ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার না হওয়ায় দেশটি নিজেদের স্বকীয় সংস্কৃতি, বর্ণমালা ও ক্যালেন্ডার সফলভাবে ধরে রাখতে পেরেছে। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই ক্যালেন্ডার ব্যবস্থায় বছর গণনার ক্ষেত্রে মোট ১৩টি মাস রয়েছে।

ইথিওপিয়ার এই ১৩ মাসের ক্যালেন্ডারে প্রথম ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন করে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৩তম মাস 'পাগুমে' গঠিত হয় মাত্র পাঁচ বা ছয় দিনে। দেশটির এমন ব্যতিক্রমী সময় কাঠামো পর্যটকদের জন্য দারুণ কৌতূহলোদ্দীপক হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এর কারণে নানা জটিলতায় পড়েন। আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেককেই পশ্চিমা ও স্থানীয়—উভয় ক্যালেন্ডারের সঙ্গেই নিয়মিত মানিয়ে চলতে হয়। এমনকি জন্মসনদ তৈরি কিংবা দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত করার সময় দুটি ভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এই ভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা মানুষেরা ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারকেই নিজেদের জীবনধারার সঙ্গে বেশি মানানসই বলে মনে করেন। ইথিওপিয়ায় নববর্ষ বা 'এনকুতাতাশ' উদ্‌যাপিত হয় ১১ সেপ্টেম্বর, যে সময়টিতে বর্ষাকাল শেষ হয়ে চারপাশ সবুজ ও রৌদ্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দেশটির মানুষের কাছে শীতের শুষ্ক মৌসুমের ১ জানুয়ারির চেয়ে বর্ষার ঠিক পরপরই নতুন বছর শুরু হওয়া অনেক বেশি যৌক্তিক বলে মনে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন ক্যালেন্ডার ব্যবহারের নজির থাকলেও ইথিওপিয়ার এই প্রাচীন ও স্বকীয় সময় গণনারর ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে এক অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সারা দুনিয়ায় ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়াতে কেন ২০১৯ সাল

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের সিংহভাগ দেশ যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে সময় গণনা করছে, তখন আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ইথিওপিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যে দাবি করা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট সাল চললেও ইথিওপিয়ার নিজস্ব সময় গণনার পদ্ধতি অনুযায়ী তারা কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির নিজস্ব এই সময় কাঠামো নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মূলত ঐতিহ্যবাহী গিজ ক্যালেন্ডার ব্যবহারের কারণেই এই ভিন্নতা তৈরি হয়েছে, যা প্রাচীন কপটিক ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ইথিওপিয়ায় যিশু খ্রিষ্টের জন্মসনকে পশ্চিমা বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় সাত থেকে আট বছর পরের হিসাব হিসেবে ধরা হয়। প্রাচীন রোমান চার্চ তাদের সময় গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলেও ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চ যুগ যুগ ধরে তাদের প্রাচীন হিসাব পদ্ধতিই বজায় রেখে চলেছে। দীর্ঘ ইতিহাসে কখনো ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার না হওয়ায় দেশটি নিজেদের স্বকীয় সংস্কৃতি, বর্ণমালা ও ক্যালেন্ডার সফলভাবে ধরে রাখতে পেরেছে। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই ক্যালেন্ডার ব্যবস্থায় বছর গণনার ক্ষেত্রে মোট ১৩টি মাস রয়েছে।

ইথিওপিয়ার এই ১৩ মাসের ক্যালেন্ডারে প্রথম ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন করে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৩তম মাস 'পাগুমে' গঠিত হয় মাত্র পাঁচ বা ছয় দিনে। দেশটির এমন ব্যতিক্রমী সময় কাঠামো পর্যটকদের জন্য দারুণ কৌতূহলোদ্দীপক হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এর কারণে নানা জটিলতায় পড়েন। আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেককেই পশ্চিমা ও স্থানীয়—উভয় ক্যালেন্ডারের সঙ্গেই নিয়মিত মানিয়ে চলতে হয়। এমনকি জন্মসনদ তৈরি কিংবা দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত করার সময় দুটি ভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এই ভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা মানুষেরা ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারকেই নিজেদের জীবনধারার সঙ্গে বেশি মানানসই বলে মনে করেন। ইথিওপিয়ায় নববর্ষ বা 'এনকুতাতাশ' উদ্‌যাপিত হয় ১১ সেপ্টেম্বর, যে সময়টিতে বর্ষাকাল শেষ হয়ে চারপাশ সবুজ ও রৌদ্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দেশটির মানুষের কাছে শীতের শুষ্ক মৌসুমের ১ জানুয়ারির চেয়ে বর্ষার ঠিক পরপরই নতুন বছর শুরু হওয়া অনেক বেশি যৌক্তিক বলে মনে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন ক্যালেন্ডার ব্যবহারের নজির থাকলেও ইথিওপিয়ার এই প্রাচীন ও স্বকীয় সময় গণনারর ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে এক অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সারা দুনিয়ায় ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়াতে কেন ২০১৯ সাল
0:00 / 0:00
1x