মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প
সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো লালবাগ কেল্লা। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন দুর্গটি দেখতে প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির আদি নাম ছিল ফোর্ট আওরঙ্গবাদ, যা মোঘল আমলের স্থাপত্যকলার এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এই দুর্গটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, যা মোঘল সাম্রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৬৭৮ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ আজম শাহ বাংলায় সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন। সে সময় নিজের বাসভবন এবং মোঘল সেনাবাহিনীর সদর দফতর হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই দুর্গটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে যুবরাজ আজম শাহ তার মেয়াদের মাত্র ১৫ মাস ঢাকায় অবস্থান করতে পেরেছিলেন এবং সম্রাট আওরঙ্গজেবের জরুরি তলবে তাকে দ্রুত দিল্লি ফিরে যেতে হয়েছিল। এর ফলে কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই স্থবির হয়ে পড়ে।

যুবরাজ ঢাকা ত্যাগ করার পর বাংলার নতুন সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন শায়েস্তা খান। তিনি কেল্লার নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন এবং এর নকশায় কিছু পরিবর্তন আনেন। তবে ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের অতি প্রিয় কন্যা পরী বিবি হঠাৎ মারা যাওয়ার পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। সে যুগে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পরী বিবির আকস্মিক মৃত্যুকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছিল এবং এই ধারণার বশবর্তী হয়ে শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ চিরতরে বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে মোঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই দুর্গের নির্মাণকাজ আর কখনো চালু করা হয়নি। কালের পরিক্রমায় অসমাপ্ত অবস্থাতেই এটি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় এবং আজও তা অসম্পূর্ণ কেল্লা হিসেবেই পরিচিত। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং মোঘল আমলের স্মৃতির বাহক হিসেবে টিকে রয়েছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো লালবাগ কেল্লা। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন দুর্গটি দেখতে প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির আদি নাম ছিল ফোর্ট আওরঙ্গবাদ, যা মোঘল আমলের স্থাপত্যকলার এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এই দুর্গটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, যা মোঘল সাম্রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৬৭৮ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ আজম শাহ বাংলায় সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন। সে সময় নিজের বাসভবন এবং মোঘল সেনাবাহিনীর সদর দফতর হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই দুর্গটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে যুবরাজ আজম শাহ তার মেয়াদের মাত্র ১৫ মাস ঢাকায় অবস্থান করতে পেরেছিলেন এবং সম্রাট আওরঙ্গজেবের জরুরি তলবে তাকে দ্রুত দিল্লি ফিরে যেতে হয়েছিল। এর ফলে কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই স্থবির হয়ে পড়ে।

যুবরাজ ঢাকা ত্যাগ করার পর বাংলার নতুন সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন শায়েস্তা খান। তিনি কেল্লার নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন এবং এর নকশায় কিছু পরিবর্তন আনেন। তবে ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের অতি প্রিয় কন্যা পরী বিবি হঠাৎ মারা যাওয়ার পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। সে যুগে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পরী বিবির আকস্মিক মৃত্যুকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছিল এবং এই ধারণার বশবর্তী হয়ে শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ চিরতরে বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে মোঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই দুর্গের নির্মাণকাজ আর কখনো চালু করা হয়নি। কালের পরিক্রমায় অসমাপ্ত অবস্থাতেই এটি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় এবং আজও তা অসম্পূর্ণ কেল্লা হিসেবেই পরিচিত। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং মোঘল আমলের স্মৃতির বাহক হিসেবে টিকে রয়েছে।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প
0:00 / 0:00
1x