মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ এএম

৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান
৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

টাঙ্গাইল জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পড়ালেখার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চললেও দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বারোটি উপজেলার মোট এক হাজার ছয়শ ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটশ আটাশিটিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও পাঁচশ একাত্তরটি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করুণ দশা দেখা গেছে ঘাটাইল, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে। বহু প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পুরো শিক্ষাকার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষকের অনুমোদিত পদ থাকলেও বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিনজন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হয়। দাপ্তরিক নানা কাজের ব্যস্ততার কারণে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাকি শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিক্ষক নেতারা এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘাটাইল ও মধুপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা জানান, তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের পক্ষে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরাও যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে প্রান্তিক অঞ্চলের শূন্য পদ পূরণের জন্য সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইল জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পড়ালেখার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চললেও দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বারোটি উপজেলার মোট এক হাজার ছয়শ ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটশ আটাশিটিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও পাঁচশ একাত্তরটি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করুণ দশা দেখা গেছে ঘাটাইল, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে। বহু প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পুরো শিক্ষাকার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষকের অনুমোদিত পদ থাকলেও বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিনজন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হয়। দাপ্তরিক নানা কাজের ব্যস্ততার কারণে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাকি শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিক্ষক নেতারা এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘাটাইল ও মধুপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা জানান, তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের পক্ষে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরাও যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে প্রান্তিক অঞ্চলের শূন্য পদ পূরণের জন্য সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান
0:00 / 0:00
1x