মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

হারিয়ে যাচ্ছে সুর, বদলে যাচ্ছে পেশা


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

হারিয়ে যাচ্ছে সুর, বদলে যাচ্ছে পেশা
হারিয়ে যাচ্ছে সুর, বদলে যাচ্ছে পেশা

ফিচার ডেস্ক: গ্রামবাংলার মেলা, কীর্তন কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী দেশীয় বাদ্যযন্ত্র। একসময়ে তবলা, ডুগি, ঢোল, কর্তাল এবং দোতারার সুরে মুখর থাকত চারপাশ। তবে সময়ের পালাবদলে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই সোনালী দিনগুলো এখন অতীত। ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রবল জনপ্রিয়তার কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে হাতে তৈরি এসব বাদ্যযন্ত্র। ফলে পৈত্রিক এই পেশা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা এবং বাধ্য হয়ে অনেকে বিকল্প পেশার সন্ধান করছেন।

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী পৌর বাজারের ননী গোপাল মোড়ে অবস্থিত স্বপন তবলা ঘর ঘুরে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের করুণ দশা। দোকানটির মালিক রবিন দাস বংশপরম্পরায় চার পুরুষ ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ছোটবেলা থেকেই বাদ্যযন্ত্রের সান্নিধ্যে বড় হলেও বর্তমান বাজারে এর চাহিদা কমে যাওয়ায় তার চোখেমুখে এখন কেবল আক্ষেপ। অতীতে ফুলবাড়ী ছাড়াও দূরদূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তবলা ও ঢোল কিনতে আসলেও বর্তমানে মাসের পর মাস দোকানে বাদ্যযন্ত্র অলস পড়ে থাকে।

আধুনিকতার প্রভাবে বিয়ে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা যাত্রাপালায় এখন কি-বোর্ড ও অর্কেস্ট্রার ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং কদর দুটোই মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। শুধু রবিন দাস একা নন, পৌর বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরাও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন। প্রবীর কুমার দাস বাবু নামের এক সংগীত শিক্ষক ও ব্যবসায়ী জানান, হাতে তৈরি বাদ্যযন্ত্র বানিয়ে আর লাভ হয় না, তাই বাধ্য হয়ে তাকেও দোকানে আধুনিক ও ডিজিটাল বাদ্যযন্ত্র রাখতে হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ফলে কেবল একটি ব্যবসা বা পেশাই বিলীন হচ্ছে না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি সমৃদ্ধ কারিগরি জ্ঞানও চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাধনা ও হাতে-কলমে শেখা ছাড়া নিখুঁত তবলা বা ঢোল তৈরি করা সম্ভব নয়। রবিন দাসের মতো কারিগররা কোনোমতে পেশাটি আঁকড়ে থাকলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ এই ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্প আয়ের পেশায় আসতে নারাজ। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো কেবল স্মৃতিতেই বেঁচে থাকবে গ্রামবাংলার এই শেকড়সংশ্লিষ্ট বাদ্যযন্ত্রগুলো।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের বিজয়, নাহিদ ইসলামের অভিনন্দন

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের বিজয়, নাহিদ ইসলামের অভিনন্দন

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


হারিয়ে যাচ্ছে সুর, বদলে যাচ্ছে পেশা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফিচার ডেস্ক: গ্রামবাংলার মেলা, কীর্তন কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী দেশীয় বাদ্যযন্ত্র। একসময়ে তবলা, ডুগি, ঢোল, কর্তাল এবং দোতারার সুরে মুখর থাকত চারপাশ। তবে সময়ের পালাবদলে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই সোনালী দিনগুলো এখন অতীত। ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রবল জনপ্রিয়তার কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে হাতে তৈরি এসব বাদ্যযন্ত্র। ফলে পৈত্রিক এই পেশা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা এবং বাধ্য হয়ে অনেকে বিকল্প পেশার সন্ধান করছেন।

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী পৌর বাজারের ননী গোপাল মোড়ে অবস্থিত স্বপন তবলা ঘর ঘুরে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের করুণ দশা। দোকানটির মালিক রবিন দাস বংশপরম্পরায় চার পুরুষ ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ছোটবেলা থেকেই বাদ্যযন্ত্রের সান্নিধ্যে বড় হলেও বর্তমান বাজারে এর চাহিদা কমে যাওয়ায় তার চোখেমুখে এখন কেবল আক্ষেপ। অতীতে ফুলবাড়ী ছাড়াও দূরদূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তবলা ও ঢোল কিনতে আসলেও বর্তমানে মাসের পর মাস দোকানে বাদ্যযন্ত্র অলস পড়ে থাকে।

আধুনিকতার প্রভাবে বিয়ে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা যাত্রাপালায় এখন কি-বোর্ড ও অর্কেস্ট্রার ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং কদর দুটোই মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। শুধু রবিন দাস একা নন, পৌর বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরাও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন। প্রবীর কুমার দাস বাবু নামের এক সংগীত শিক্ষক ও ব্যবসায়ী জানান, হাতে তৈরি বাদ্যযন্ত্র বানিয়ে আর লাভ হয় না, তাই বাধ্য হয়ে তাকেও দোকানে আধুনিক ও ডিজিটাল বাদ্যযন্ত্র রাখতে হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ফলে কেবল একটি ব্যবসা বা পেশাই বিলীন হচ্ছে না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি সমৃদ্ধ কারিগরি জ্ঞানও চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাধনা ও হাতে-কলমে শেখা ছাড়া নিখুঁত তবলা বা ঢোল তৈরি করা সম্ভব নয়। রবিন দাসের মতো কারিগররা কোনোমতে পেশাটি আঁকড়ে থাকলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ এই ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্প আয়ের পেশায় আসতে নারাজ। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো কেবল স্মৃতিতেই বেঁচে থাকবে গ্রামবাংলার এই শেকড়সংশ্লিষ্ট বাদ্যযন্ত্রগুলো।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
হারিয়ে যাচ্ছে সুর, বদলে যাচ্ছে পেশা
0:00 / 0:00
1x