মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস
মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে এক নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মব সংস্কৃতি বা দলবদ্ধ আক্রমণ নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সমষ্টিগত ক্ষোভ ও আবেগ তৈরি হচ্ছে। এই আবেগ অনেক সময় এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে ব্যক্তি তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও যুক্তিপূর্ণ চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দ্বিধাবোধ করে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমষ্টিগত আচরণের পেছনে বহুবিধ মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ কাজ করে থাকে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা মানুষকে সহজেই সহিংস করে তোলে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে প্রচলিত আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, তখন তারা নিজেদের মতো করে তাৎক্ষণিক বিচার করার পথ বেছে নেয়। এর ফলে সমাজে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তবে এই ধরনের দলবদ্ধ আক্রমণ বা মব জাস্টিসকে কেবল সাধারণ ক্ষোভের প্রকাশ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর পেছনে প্রায়শই সুনির্দিষ্ট কোনো মহল বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উসকানি ও পূর্বপরিকল্পনা থাকে। তারা সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অশুভ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। ফলে এটি অনেক সময় স্বতঃস্ফূর্ত কোনো প্রতিক্রিয়া না হয়ে বরং এক ধরণের সংগঠিত সন্ত্রাসে রূপ নেয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ করলেই চলবে না, বরং এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক, যা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে এক নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মব সংস্কৃতি বা দলবদ্ধ আক্রমণ নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সমষ্টিগত ক্ষোভ ও আবেগ তৈরি হচ্ছে। এই আবেগ অনেক সময় এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে ব্যক্তি তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও যুক্তিপূর্ণ চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দ্বিধাবোধ করে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমষ্টিগত আচরণের পেছনে বহুবিধ মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ কাজ করে থাকে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা মানুষকে সহজেই সহিংস করে তোলে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে প্রচলিত আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, তখন তারা নিজেদের মতো করে তাৎক্ষণিক বিচার করার পথ বেছে নেয়। এর ফলে সমাজে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তবে এই ধরনের দলবদ্ধ আক্রমণ বা মব জাস্টিসকে কেবল সাধারণ ক্ষোভের প্রকাশ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর পেছনে প্রায়শই সুনির্দিষ্ট কোনো মহল বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উসকানি ও পূর্বপরিকল্পনা থাকে। তারা সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অশুভ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। ফলে এটি অনেক সময় স্বতঃস্ফূর্ত কোনো প্রতিক্রিয়া না হয়ে বরং এক ধরণের সংগঠিত সন্ত্রাসে রূপ নেয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ করলেই চলবে না, বরং এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক, যা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস
0:00 / 0:00
1x