মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী


দৈনিক প্রভাতী
ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী
২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী

ফিচার ডেস্ক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদ প্রামাণিক একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘সামাদ প্রফেসর’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বয়স সত্তরে কোঠা পেরোলেও শরীর ও মনের সতেজতা অবাক করার মতো। আর তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে একটি ব্রিটিশ আমলের বাইসাইকেল। প্রায় ছয় দশক ধরে প্রতিদিন এই সাইকেল চালিয়েই তিনি নিজের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করেন।

১৯৬৬ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে মাত্র ২৮০ টাকা দিয়ে তাঁকে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘র‍্যালি’ ব্র্যান্ডের এই সাইকেলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। উনিশশো উনসত্তরে উচ্চশিক্ষার জন্য এই বাহনটি নিয়েই তিনি রাজশাহী শহরে পাড়ি জেমছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলে সাইকেলটি বাড়িতে রেখেই তিনি রণাঙ্গনে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়ি ফিরে অক্ষত অবস্থায় প্রিয় সাইকেলটি খুঁজে পান তিনি। পরে সেটি নিয়ে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান এবং ১৯৭৩ সালে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনেও তাঁর এই বাইসাইকেলটি ছিল প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ১৯৭৭ সালে ভবানীগঞ্জ কলেজে গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, ১৯৮৪ সালে তিনি একই কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান। নিজ বাড়ি থেকে কলেজ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ তিনি প্রতিদিন এই সাইকেলে চড়েই যাতায়াত করতেন। এমনকি ২০০৯ সালে নিজের অবসরের দিনেও তিনি সাইকেল চালিয়েই কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। অবসরে যাওয়ার পরও তাঁর এই দ্বিচক্র যানের প্রতি আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি।

বর্তমান সময়েও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে সাইকেলটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে মূল ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ না মেলায় তিনি সবসময় ভালো মানের বিকল্প যন্ত্রাংশ ও টিউব লাগিয়ে এটি সচল রেখেছেন। নিজের শরীরের পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই বাহনটিরও দেখভাল করে থাকেন। তাঁর মতে, বার্ধক্যেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পেছনে নিয়মিত সাইকেল চালানোর বড় অবদান রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও তাঁর সহযোদ্ধারা শিক্ষক সামাদের এই জীবনযাপন দেখে দারুণ অনুপ্রাণিত হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী মোল্লা জানান, ছাত্রজীবন থেকে তাঁরা সামাদকে এই একই সাইকেলে চলাচল করতে দেখে আসছেন। ভবানীগঞ্জ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মতে, এই সাইকেলটি কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসার একটি গভীর প্রতীক। সামাদ প্রামাণিক নিজেই মনে করেন, এই সাইকেল এখন আর কেবল কোনো জড় বস্তু নয়, বরং এটি তাঁর পরিবারেরই একজন আপন সদস্যের মতো।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দেওয়ার অভিযোগ

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

সেউতা থেকে অভিবাসী শিশুদের স্পেনে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিবন্ধিত ১,৩৪২ শিশু

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হয় না: হাইকোর্ট

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী পাচার চক্র ভেঙে দিল স্পেন, গ্রেপ্তার ৭৮

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ন্যাশনাল ব্যাংক পাচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আমানতকারীদের টাকা ফেরত বৃহস্পতিবার থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন নভেম্বর মাসজুড়ে

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি

সব যোগ্যতা থাকার পরও শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিতে এত জটিলতা কেন

সব যোগ্যতা থাকার পরও শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিতে এত জটিলতা কেন

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান

কুষ্টিয়ায় স্টেডিয়ামে অনুমতি দিল প্রশাসন, জামায়াত জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ করতে অনড়

কুষ্টিয়ায় স্টেডিয়ামে অনুমতি দিল প্রশাসন, জামায়াত জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ করতে অনড়

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের বিজয়, নাহিদ ইসলামের অভিনন্দন

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের বিজয়, নাহিদ ইসলামের অভিনন্দন

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জাপান

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

আত্মপ্রকাশ করল এনসিপির নতুন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোতে অংশীদারিত্ব জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

অবকাঠামোয় অর্থায়নে বিকল্প উৎস যমুনা সেতু

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

টোকিওতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

দৈনিক প্রভাতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফিচার ডেস্ক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদ প্রামাণিক একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘সামাদ প্রফেসর’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বয়স সত্তরে কোঠা পেরোলেও শরীর ও মনের সতেজতা অবাক করার মতো। আর তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে একটি ব্রিটিশ আমলের বাইসাইকেল। প্রায় ছয় দশক ধরে প্রতিদিন এই সাইকেল চালিয়েই তিনি নিজের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করেন।

১৯৬৬ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে মাত্র ২৮০ টাকা দিয়ে তাঁকে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘র‍্যালি’ ব্র্যান্ডের এই সাইকেলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। উনিশশো উনসত্তরে উচ্চশিক্ষার জন্য এই বাহনটি নিয়েই তিনি রাজশাহী শহরে পাড়ি জেমছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলে সাইকেলটি বাড়িতে রেখেই তিনি রণাঙ্গনে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়ি ফিরে অক্ষত অবস্থায় প্রিয় সাইকেলটি খুঁজে পান তিনি। পরে সেটি নিয়ে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান এবং ১৯৭৩ সালে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনেও তাঁর এই বাইসাইকেলটি ছিল প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ১৯৭৭ সালে ভবানীগঞ্জ কলেজে গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, ১৯৮৪ সালে তিনি একই কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান। নিজ বাড়ি থেকে কলেজ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ তিনি প্রতিদিন এই সাইকেলে চড়েই যাতায়াত করতেন। এমনকি ২০০৯ সালে নিজের অবসরের দিনেও তিনি সাইকেল চালিয়েই কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। অবসরে যাওয়ার পরও তাঁর এই দ্বিচক্র যানের প্রতি আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি।

বর্তমান সময়েও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে সাইকেলটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে মূল ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ না মেলায় তিনি সবসময় ভালো মানের বিকল্প যন্ত্রাংশ ও টিউব লাগিয়ে এটি সচল রেখেছেন। নিজের শরীরের পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই বাহনটিরও দেখভাল করে থাকেন। তাঁর মতে, বার্ধক্যেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পেছনে নিয়মিত সাইকেল চালানোর বড় অবদান রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও তাঁর সহযোদ্ধারা শিক্ষক সামাদের এই জীবনযাপন দেখে দারুণ অনুপ্রাণিত হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী মোল্লা জানান, ছাত্রজীবন থেকে তাঁরা সামাদকে এই একই সাইকেলে চলাচল করতে দেখে আসছেন। ভবানীগঞ্জ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মতে, এই সাইকেলটি কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসার একটি গভীর প্রতীক। সামাদ প্রামাণিক নিজেই মনে করেন, এই সাইকেল এখন আর কেবল কোনো জড় বস্তু নয়, বরং এটি তাঁর পরিবারেরই একজন আপন সদস্যের মতো।


দৈনিক প্রভাতী

Editor : M S N Masook
Mobile: 01994422789

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী
0:00 / 0:00
1x