উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্প্রতি উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ওই ভবনটির উদ্বোধনের সময় এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নামফলক উন্মোচন করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান সেখানে তাঁর নিজের নাম খোদাই করা রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফলকটি উন্মোচন করতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রথাগত সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে এক অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার ঝড় তোলে। সাধারণ মানুষ ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ তাঁর এই পদক্ষেপকে ব্যক্তিপূজা এবং চাটুকারিতার রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সাহসিকতাপূর্ণ বার্তা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ একে ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা বার্তা দেওয়ার প্রয়াস হিসেবেও মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্যটিতে দেখা যায়, লাল ফিতা কেটে ভেতরে প্রবেশের পর কাপড়ে ঢাকা ফলকটি সরাতেই নিজের নাম দেখতে পান এই নেতা।
ফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জনগণের করের অর্থে নির্মিত কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় তিনি কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিবিশেষের নাম ব্যবহারের সংস্কৃতি সমর্থন করেন না। জনপ্রতিনিধিদের আত্মপ্রচারের জন্য নামফলকে নাম খোদাই করার এই পুরোনো প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত বলে জোরালো মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ফলক উন্মোচন না করেই তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ওই নামফলকটি পরিবর্তন করে নতুন করে তৈরি করার কঠোর নির্দেশ দেন।
এদিকে রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সংসদ সদস্যের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা খুব দ্রুত বর্তমান নামফলকটি পরিবর্তন করে সেখানে যথাযথ সংস্কার আনবেন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের ফলকে নেতার নাম না বসিয়ে বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি কিংবা কীর্তিমান গুণীজনদের নাম স্থান পাওয়া উচিত। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি টিকতে দেওয়া হবে না এবং তাঁর পুরো নির্বাচনী এলাকায় এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।