উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে অপর একটি দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন এবং কমবেশি ১৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাসটির চাকা বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে থামিয়ে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা পালকী পরিবহনের একটি বাস মাঝপথে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এর চাকা ফেটে যায়। গাড়িটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলন্ত অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের আরেকটি দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পালকী পরিবহনের বাসটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে থানা–পুলিশের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ সময় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরবর্তীতে শিবচর হাইওয়ে থানা–পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মহাসড়কে এই ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনা রোধে ভারী যানবাহনগুলোর ফিটনেস ও চালকদের সতর্কতা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় তাগিদ দিয়েছে।