উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের আইনগত ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি গভীর চক্রান্ত উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বড় ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির নীল নকশা তৈরি করেছিলেন স্থানীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল। এই বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ মোট ঊনপঞ্চাশ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দায়িত্বশীল সূত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, মিরপুর এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করা এবং সাধারণ শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে তাদের এই ধরনের গোয়েন্দা অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো কুচক্রী মহল যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একাংশের এমন কর্মকাণ্ড জনজীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অতীতেও বিভিন্ন আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার নজির থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিরপুর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।