উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে গত বছর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সদ্য সাবেক ছাত্র সংসদ নেতারা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত বছরের জুলাই মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অক্টোবরের মাঝামা সময়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী প্যানেলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা এবং প্রক্রিয়াটিকে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা। তবে বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছর হলেও পরবর্তী ভোট আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানিয়েছেন যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি পুরোপুরি উপাচার্যের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি উপাচার্য তাকে পূর্ববর্তী নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন এবং তিনি সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রদান করেছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র চাপ না থাকলে এই বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হতো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে শুধু প্রাথমিক আলোচনা বা প্রতিবেদন প্রস্তুত করাই যথেষ্ট নয়, একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে যে ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন তার কিছুই এখনো শুরু হয়নি।
সদ্য সাবেক রাকসু নেতারা জানিয়েছেন যে তারা নিয়মিতভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত একটি অধিবেশনে উপাচার্য কোষাধ্যক্ষকে নির্বাচনী তফসিল প্রণয়ন ও গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত হালনাগাদ তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সাবেক ছাত্র সংসদ নেতাদের একটি অংশের আশঙ্কা, প্রশাসন হয়তো কোনো বিশেষ মহলের ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছে অথবা টালবাহানা করে নির্বাচন বিলম্বিত করার পথ খুঁজছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীরা যে নিয়মিত নির্বাচন চায় তা গতবারের ভোটাভুল ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে প্রশাসন সব সময়ই ছাত্র সংসদ সচল রাখার পক্ষে এবং নির্বাচন নিয়ে তাদের ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সময় পেরিয়ে গেলেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব নয়, এর জন্য ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ ও অনুকূল পরিস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল পরবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও মনে করছেন যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রাকসুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেছেন যে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।