উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্বাস্থ্য ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার ফলে সামগ্রিকভাবে কসমেটিক সার্জারির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, অস্ত্রোপচার ছাড়াই অতিরিক্ত ওজন কমানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় লিপোসাকশনসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সহজে ওজন কমানোর বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতির কারণে সার্জারিকল খাতের এই রূপান্তর ঘটছে।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অ্যাসথেটিক প্লাস্টিক সার্জনসের সাম্প্রতিক এক জরিপে কসমেটিক সার্জারির চাহিদার এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৫১টি দেশের প্রায় তিন হাজার প্লাস্টিক সার্জনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোতে পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতেই অস্ত্রোপচারভিত্তিক কসমেটিক প্রক্রিয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে লিপোসাকশন, স্তন বড় করার সার্জারি এবং বোটক্সের মতো জনপ্রিয় প্রক্রিয়াগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।
তবে ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাবে সব ধরনের সার্জারির চাহিদা যে কমেছে তা নয়, বরং চিকিৎসার ধরণ পাল্টে গেছে। দ্রুত ওজন হ্রাসের ফলে অনেকেরই ত্বক ঝুলে যাওয়া এবং শরীরের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে ফেসলিফট, বডিলিফট এবং স্তন উন্নত করার মতো নির্দিষ্ট কিছু পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের চাহিদা উল্টো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত চর্বি গলানোর জন্য এসব ওষুধের ব্যবহার বাড়লেও ঝুলে যাওয়া ত্বক ঠিক করতে সার্জারির বিকল্প নেই।
চিকিৎসক ও সৌন্দর্যশিল্পের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওজন কমানোর ওষুধ আরও সহজলভ্য হলে বাজারের এই প্রবণতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইতিমধ্যে প্রখ্যাত প্রসাধনী ব্র্যান্ডগুলোও এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে নতুন পণ্য তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে। তবে সামগ্রিকভাবে কসমেটিক সার্জারির বাজার সংকুচিত হলেও মানুষের পরিবর্তিত সৌন্দর্যবোধ এবং শারীরিক গঠন ঠিক রাখার নতুন প্রয়োজনীয়তা নতুন ঘরানার চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্র তৈরি করছে।