উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। এখন দেশের সাধারণ মানুষকে হতাশা প্রকাশের অধিকারও চাইতে হচ্ছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহের নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের মুক্তির দাবিতে এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। গত রোববার ফেসবুকে দুটি লাইভ করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাথী। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায় যে বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে তিনি আজ ভুক্তভোগী। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করেন এবং উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে সাথী আক্তার আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামিন পেয়েছেন।
সরকারের সমালোচনা করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না বলে মন্তব্য করে আখতার হোসেন বলেন, সাথী লাইভে এসে নিজের অভিজ্ঞতা ও হতাশার কথা বলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাথীর বক্তব্যে সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানালেও তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভোটের অধিকারের দাবি ওঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে বাক্স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার চাইতে হলেও এখন বিএনপির আমলে হতাশা প্রকাশের অধিকার চাইতে হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা চুরি-ডাকাতি বাড়ার বিষয়ে নাগরিকদের সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা দরকার। কিন্তু বর্তমান সরকার মানুষকে নিজেদের মতো করে কথা বলতে বাধ্য করতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু বলেন, কোনো সরকার জনসমর্থন হারিয়ে ফেললে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে, যা তাঁরা হাসিনার আমলেও দেখেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে জনসমর্থন হারিয়েছেন এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানুষও এখন বিরক্ত বলে দাবি করেন তিনি। সংগঠনের সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নিয়ে তৈরি করা মিম শেয়ার করে সমালোচনা উপভোগ করার কথা বললেও তাঁর আশপাশের লোকজন তা উপভোগ করেন না। মানববন্ধনে জাতীয় নারীশক্তির নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে নারীর কণ্ঠরোধ না করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সাইবার আইনের সংশোধনীসহ সব কালাকানুন বাতিলের দাবি জানানো হয়।