উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় ডেস্ক: প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন ক্ষেত্রগুলো সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন নদনদী, হাওর, বাঁওড়ের পাশাপাশি এবার সমুদ্রসীমায়ও মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত মৎস্য গবেষণা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মাছে-ভাতে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে, অতীতের মানসম্মত গবেষণার ফলেই বাংলাদেশ আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাষকৃত মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মানোন্নয়ন এবং আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং মানুষের চরম সচেতনতার অভাবে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি, নতুন জাত উদ্ভাবন এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজাতিগুলো পুনরুদ্ধারে গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলের অপার সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার রোধে কঠোর আইনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আগামী দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ বিদেশে রপ্তানি করতে চায় বর্তমান প্রশাসন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা হবে না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পানির গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাছের প্রকৃত স্বাদ হারিয়ে যাচ্ছে। মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই এই খাতটি আরও বেশি সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।