উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা থাকলে সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর তালিকা পাঠিয়েছিল। সেখানে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম ছিল কিন্তু বিষয়টি যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। ওই তালিকায় বন্দীদের যে ক্যাটাগরি ছিল, তাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল ৬ মাস থেকে ১৫ বছরের জেল হতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড হবে, এটা তাঁরা বুঝতে পারেননি।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়েও আলোচনা হয়। সৌদি আরবে ১–২ শতাংশ বাংলাদেশি নারী কর্মী নির্যাতনের শিকার হন বলে সংসদীয় কমিটিতে তথ্য দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। তারা বলেছে, শতাংশের হিসাবে কম মনে হলেও সংখ্যার হিসাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা অনেক বেশি।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা জানতে চেয়েছেন কনস্যুলার আগে কেন জানতে পারেনি, এখানে কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে রিপোর্টটা আসলে ওইভাবে কেউ আইডেন্টিফাই করেনি। ইতোমধ্যে দুই জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে ৬ প্রশ্নের জবাব চেয়ে সৌদি আরবের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও কমিটি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে।