উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে সিভিল সার্ভিস বা আইএএস কর্মকর্তা হওয়াকে জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও এর পেছনের বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কমিশনার এবং আলোচিত আইএএস কর্মকর্তা তুকারাম মুণ্ডে জানিয়েছেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা। দীর্ঘ ২১ বছরের চাকরিজীবনে প্রায় ২৫ বার বদলির শিকার হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের সন্তানেরা যেন কখনো এই পেশায় না আসে। সম্প্রতি এক ব্যবসায়িক সম্মেলনে দেওয়া তাঁর এই মন্তব্য ভারতীয় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
২০০৫ ব্যাচের এই ক্যাডার কর্মকর্তা কর্মজীবনে নিজের কঠোর নীতিপরায়ণতা এবং আপসহীন মনোভাবের জন্য সুপরিচিত। তবে পেশাগত এই সততার মূল্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বেশ চড়া দামে পরিশোধ করতে হয়েছে। ঘনঘন বদলির কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তাঁর ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পৌঁছানোর আগেই অন্তত ছয়টি ভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে, যা তার মানসিক বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তুকারাম মুণ্ডের মতে, সিভিল সার্ভিসের পদমর্যাদা ও ক্ষমতার মোহের আড়ালে লুকিয়ে থাকে পরিবার ও জীবনসঙ্গীর তীব্র আত্মত্যাগ। বারবার ঠিকানা পরিবর্তন এবং নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এই ধকল কেবল একজন কর্মকর্তার একার নয়, বরং পুরো পরিবারের ওপর দিয়ে যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি তাঁর সন্তানদের জনসেবা থেকে বিরত রাখতে চান। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের শক্তি ও মেধা কেবল গতানুগতিক সরকারি কাঠামোর ভেতর আবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
তিনি তাঁর সন্তানদের সিভিল সার্ভিসের বদলে ব্যবসা, উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা সরাসরি জননেতা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট প্রশাসনিক গণ্ডির বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করলে সমাজ পরিবর্তনে আরও বড় ও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। চলতি বছরের মে মাসে মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই কর্মকর্তা ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের এই ২৫ বার বদলির রেকর্ড প্রমাণ করে, ক্ষমতার এই শীর্ষেও পৌঁছানোর জন্য ব্যক্তিগত জীবনে কতটা মূল্য দিতে হয়।