উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, রাজপথের আন্দোলন ও মেয়র হওয়ার লড়াই তাঁকে পরিচিতি দিয়েছিল। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রী হওয়া ছিল বড় অর্জন। কিন্তু অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা তাঁকে বিতর্কে ফেলে। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে হলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইশরাক হোসেনকে। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার বয়স আট মাস হয়েছে এবং মন্ত্রিসভায় ইশরাক হোসেনের মেয়াদও আট মাস। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। তিনি ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ঘটনাটি শুধু একজন তরুণ প্রতিমন্ত্রীর বিতর্কে জড়িয়ে পড়াতেই সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা ও মন্ত্রীদের আচরণ কতটুকু পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে—সে বিষয়ে সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখতে হবে।
ইশরাক হোসেনের বয়স ৩৯ বছর এবং তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর বাবার মৃত্যুর পর তাঁর তৈরি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই সামনে আসেন ইশরাক হোসেন। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন এবং তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে তিনি আইনি লড়াই শুরু করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করে কিন্তু তাঁকে শপথ পড়ানো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ এই বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন যে ইশরাকের কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরিপক্বতা ও হামবড়া ভাবের একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর পরিণতিবোধের অভাবের কারণে সরকারের বদনাম হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য একটা কড়া বার্তা। বিশ্লেෂকেরা মনে করছেন, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগ করতে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল ও সরকারের অন্যদের জন্যও বার্তা দিয়েছেন। বার্তাটি হলো, মন্ত্রীদের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার কাউকে দায়মুক্তি দেবে না। তবে পদত্যাগের নির্দেশই চূড়ান্ত জবাব নয় এবং গেন্ডারিয়ার ঘটনায় আইন ভাঙা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তে নির্ধারিত হওয়া দরকার। ইশরাক শুধু প্রতিমন্ত্রী নন, সংসদ সদস্যও, ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে যাচ্ছে না কিন্তু অল্প সময়ে পাওয়া ক্ষমতা ধরে রাখতে না পারার এই উদাহরণ কতটুকু বোধ তৈরি করবে সেটাই বড় প্রশ্ন।