উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
যে কাজের জন্য সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেটারই সাফাই গাইলেন ইশরাক হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন কথা বলার পাশাপাশি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। রাজধানীতে গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের কথা জানান ইশরাক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকে ঘটনার দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে নিজের অবস্থান সঠিক বলে দাবি করেন ইশরাক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৫ আগস্টের পর পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে না ফেরায় তাঁরা নিজেরাই কিছু উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। ইশরাক বলেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন বাহিনীর কাছে বারবার ধরনা দিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং ডিএমপির লালবাগ ও ওয়ারী বিভাগের ডিসি ও ট্রাফিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করেন তাঁরা। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব তাঁদের দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৮ সালের ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী এলাকার তিনটি থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, তাঁরা পুলিশের বসার ও আসবাবের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আইনের শাসনে বিশ্বাস করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে প্রকাশিত খবরের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, মেয়র নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। দল তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে তিনি শতভাগ প্রস্তুত আছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, তিনি রাজনৈতিক দল থেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হননি, তবে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মন্তব্যে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। সাধারণ মানুষ হাততালি দিয়ে উল্লাস করেছে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, এলাকাবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি কাজ করে যাবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর এই কর্মকাণ্ডকে ক্ষমতার প্রদর্শন ও অপরিপক্বতা হিসেবে দেখছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতা–কর্মীদের নিয়ে প্রেসক্লাব ভবন থেকে নেমে আসেন ইশরাক এবং গাড়ির ছাদ খুলে হ্যান্ডমাইকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।