উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় এক মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আলোচনায় আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। গত শনিবার গেন্ডারিয়া এলাকায় ওই অভিযানে তার ও তার সহযোগীদের অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর সরকার ও দলের ভেতরে তৈরি হওয়া অস্বস্তির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এর পরপরই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানান এই প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পদত্যাগ নিয়ে যারা উল্লাস প্রকাশ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর এক বার্তা দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে ইশরাক বলেন, কিছু সুশীল মানুষকে তার পদত্যাগে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে কখনো দেশে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সমালোচকরা বিদেশ থেকে দেশে এসে সরাসরি মাঠে যোগ দেবেন। এছাড়া পদত্যাগের পর তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী পদ হারানোর পর একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে বিভিন্ন জেলা সফর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান ইশরাক।
এর আগে গত শনিবার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে গাড়ী থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায় ইশরাককে। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল এবং ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহন করা গেলেও অন্যের মনে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি হয় এমনভাবে তা প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। এই ঘটনার আইনি বৈধতা ও কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দিয়ে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এদিকে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন ইশরাক। তিনি দাবি করেছিলেন যে, পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তেই তিনি ওই মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর তিনি মন্ত্রিসভা ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান। এর আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে গত ১ অক্টোবর সরকারের আরেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।