উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় কৃষি বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োচারের বহুমুখী সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, কৃষি বর্জ্য, খড়কুটো ও উদ্ভিজ্জ পদার্থ পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় উত্তপ্ত করে বায়োচার তৈরি করা সম্ভব, যা মাটির ভৌত গুণাগুণ উন্নয়ন ও পুষ্টি উপাদানের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বায়োচার ব্যবহারের ফলে ভুট্টার ফলন ২৯ শতাংশ, আউশ ধান ২৩ শতাংশ এবং বোরো ধানের ফলন ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া বায়োচার প্রলেপযুক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নাইট্রোজেন সার সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি মাটির পানি ধারণক্ষমতা ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
তবে বায়োচারের সুফল পেতে সঠিক প্রয়োগপদ্ধতি অনুসরণ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা কাঁচা বায়োচার সরাসরি জমিতে না দিয়ে কম্পোস্ট বা জৈব সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ভারী ধাতুর দূষণ এড়াতে এবং মান নিশ্চিত করতে জাতীয় মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবিধি প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, বায়োচার ব্যবহারের অর্থনৈতিক লাভজনকতা প্রমাণ করা গেলে কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে এটি মাটির উর্বরতা রক্ষা ও রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।