উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অনন্য সাধারণ ইমাম দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও পরিশ্রমে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত মুখ মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল পেশায় একজন মসজিদের ইমাম হলেও পরিবেশ রক্ষায় তাঁর ভূমিকা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি চরফ্যাশনের ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বায়তুল মামুর জামে মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি তাঁর এই দীর্ঘ সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর এমন পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষার এই মহৎ কাজের সূচনা হয়েছিল মূলত নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করে তিনি একটি নার্সারি গড়ে তুলেছিলেন। সেই নার্সারিতে উৎপাদিত বিভিন্ন গাছের চারা তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সড়ক ও খালি জায়গায় রোপণ করতে শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় তাঁর রোপণ করা সেই ছোট চারাগুলো আজ বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। তাঁর লাগানো গাছের মধ্যে ফলজ, ঔষধি গাছের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ যা এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গণমাধ্যমে এই নিবেদিতপ্রাণ ইমামের বৃক্ষরোপণের গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলের নজরে আসে। পরবর্তীতে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজের মাধ্যমে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ আমন্ত্রণপত্র লাভ করেন। সম্প্রতি তিনি রাজধানীতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান এবং তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। সরকারপ্রধান তাঁর এই নিঃস্বার্থ কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁর এই ভালো কাজের ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, দেশের ও দশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসা মানুষের অবদান সমাজ গঠনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্য সাধারণ মানুষকেও জনকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল জানান যে, তাঁর এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রী মূল্যায়ন করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকে তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ষাট হাজার চারা রোপণ করেছেন এবং যতদিন বেঁচে থাকবেন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।