উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অতীত থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে চাপে রাখলেও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে অনিয়ম দূর করতে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা বলা হলেও, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একইসাথে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, এই আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা এবং আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই মন্তব্য করেন। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সাধারণত সংরক্ষণশীল হয়ে থাকে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, সরকার বাজেটে নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী। বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশল অনুযায়ী আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেয়া হবে।
আইএমএফের ঋণসহায়তা পেতে বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানান ড. তিতুমীর। শুধু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক নয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন কৌশল ও অগ্রাধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা উন্নয়ন সহযোগীরা ইতিবাচকভাবে দেখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।