উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্বাস্থ্য ডেস্ক: জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে চার থেকে আট বছর বয়সী মেয়েদেরও নিয়মিত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি টিকা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সম্প্রতি ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত পরামর্শক দলের পক্ষ থেকে এই নতুন বৈজ্ঞানিক সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে কম বয়সে টিকাদান শুরু করলে যদি সামগ্রিক টিকাদানের হার ও আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, তবেই কেবল এই কৌশল গ্রহণ করা উচিত। বিশ্বজুড়ে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে নতুন পদ্ধতি অনুসরণের ওপর প্রতিনিয়ত জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি রাষ্ট্রে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকলেও বৈশ্বিক গড় হার মাত্র ৩৩ শতাংশ, যা নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যের তুলনায় অত্যন্ত হতাশাজনক। সংস্থাটির টিকাদানবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত পরামর্শক দলের চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট সংবাদমাধ্যমকে জানান যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের টিকাদানকেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এর আগে ২০২২ সালে সংস্থাটি এক বা দুই ডোজের টিকাদানের পরামর্শ দিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে বৈন্যানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য এক ডোজের পদ্ধতিকেই সবচেয়ে কার্যকর বলে নির্ধারণ করা হয়। এখন চার থেকে আট বছর বয়সীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার সুযোগ রাখা হলেও মূল অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে মারাত্মক জরায়ুমুখের ক্যানসার হতে পারে যা বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। বিশ্বজুড়ে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ নারী মৃত্যুর মুখে পতিত হন এবং বিপুলসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হন। ডব্লিউএইচওর টিকাবিষয়ক বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন যে সম্প্রতি কোটি কোটি কিশোরী এই টিকার সুফল পেয়েছে, তবুও বিশ্বব্যাপী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে টিকার পরিধি আরও বহুগুণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২৬টি দেশে এটি নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এইচপিভির টিকাদানের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে কৌশলগত পরামর্শক দল নির্ধারিত বয়সের বাইরেও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। এর অংশ হিসেবে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ করতে পারেননি, তাদের পাশাপাশি ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদেরও টিকার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি নারীদের সুরক্ষার পাশাপাশি ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং পরবর্তীতে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এইচপিভি প্রতিরোধের জন্য বেশ কয়েকটি ভিন্ন ধরনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে এবং এই টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন ক্যানসার প্রতিরোধে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।