উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যা নিরসন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিল্পকারখানার প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে দেশের শ্রমবাজারের মেলবন্ধন তৈরির উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলটিং কার্যক্রম হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার। বর্তমান প্রশাসনের নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এই সেন্টারটি তা বাস্তবায়নে একটি স্থায়ী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দেশের সমগ্র বেকার জনগোষ্ঠীর একটি সুসংগঠিত ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেজ তৈরি করা হবে, যা জাতীয় পর্যায়ে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান পরিকল্পনা প্রণয়নকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং এর সেবাসমূহ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের পুরোনো উনিশটি জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হবে, যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাকরিপ্রত্যাশীরাও সহজে এই প্ল্যাটফর্মের সুফল ভোগ করতে পারবেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই ডিসেম্বরের মধ্যে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সেন্টারের মাধ্যমে শুধু চাকরির তথ্যই দেওয়া হবে না, বরং চাকরিপ্রত্যাশীদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলা হবে।
অর্থনীতিবিদ ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালুর ফলে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের পথ অনেক সুগম হবে। একইসঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্পের সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং শিল্প মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এর ফলে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী খুব সহজেই দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক ও দূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্পটির সার্বিক রূপরেখা অনুযায়ী, বেকার জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট জরিপ পরিচালনা, জাতীয় কর্মসংস্থান ডেটাবেজ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের সমস্ত ব্যয় রাষ্ট্র নিজেই বহন করবে। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন যে, দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেরিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে আগ্রহী তরুণদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি শক্তিশালী ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হবে। এছাড়া শিল্পকারখানার চাহিদার সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি সংযোগ ঘটাতে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা দেশের শ্রমবাজারের বড় একটি ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে সাহায্য করবে।