উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ধর্ম ডেস্ক: আগামী ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন এবং নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অপপ্রচার না চালানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ বিষয়ে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় এই জমায়েতকে কেন্দ্র করে সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত একটি সরকারি সভার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে এবং তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের অধীনে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী ২০২৭ সালের প্রথম ধাপের ইজতেমা আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের এমন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
ধর্মীয় এই বৃহৎ আয়োজন সফল করতে অতীতে সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করা হয়েছে উল্লেখ করে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওলামায়ে কেরাম। বিশেষ করে সরকারপ্রধান, স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ যেভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে আসছেন, তা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। দেশের বৃহৎ এই দ্বীনি জমায়েত যেন কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান নেতারা।
এর পাশাপাশি, বিগত বছরগুলোতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক প্রোপাগাণ্ডার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাርোপে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আজহারী। এ সময় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাঝহারী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা আনিসুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।