উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আইন-আদালত ডেস্ক: বিয়ের শর্ত বা দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা ছাড়া কেবল ব্যবসার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছে উচ্চ আদালত। মো. রাসেল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির করা ফৌজদারি আপিল আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দেন। পরবর্তীতে এই মামলার ১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, যা নিয়ে আইনি অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালে মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এর দীর্ঘদিন পর ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে স্বামী রাসেল তাঁর ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহের জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রী ইসমত আরা দাবি করেন যে তাঁর স্বামী তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিচারিক আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে স্বামী রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাসেল এবং তিনি রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে আদালত এই আপিল মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নেন।
হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী যৌতুকের একটি নির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা রয়েছে। বিয়ের সময় কিংবা সংসার টিকিয়ে রাখার শর্ত সাপেক্ষে বরপক্ষের তরফ থেকে কোনো অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করা হলেই কেবল তা যৌতুকের পর্যায়ে পড়ে। বর্তমান মামলায় ব্যবসা বা অন্য কোনো কাজে সহায়তার জন্য টাকা চাওয়া হলেও তা পরিশোধ না করলে সংসার ভেঙে দেওয়া হবে—এমন কোনো শর্ত বা হুমকির প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে পেশ করতে পারেনি।
নথিপত্র ও চিকিৎসকের সনদের সঙ্গে অভিযোগের বিবরণে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে আদালত। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেন। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত স্বামী রাসেল উদ্দিন সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি ও বেকসুর খালাস লাভ করেন।