উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় ডেস্ক: অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের গল্প লিখে চলেছেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মদনপুর এলাকার তরুণ মো. সোহেল। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় এই তরুণ কেবল নিজের উচ্চশিক্ষার পথই সুগম করেননি, বরং পরিবারের দুর্দিনে আর্থিক সহায়তা দিয়েও পাশে দাঁড়িয়েছেন। চরাঞ্চলের একটি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে তার এই আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সংগ্রাম স্থানীয় তরুণ সমাজের মধ্যে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
শিক্ষাজীবনের শুরুতে মদনপুর আলোর পাঠশালা থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি এবং মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষা পাস করেন সোহেল। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পা রাখেন এবং বর্তমানে ভোলা সরকারি কলেজে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে সম্মান শ্রেণীতে অধ্যয়নরত আছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানো এবং পরিবারকে সহায়তা করার তাগিদে তিনি বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।
একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মজীবনেও সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন এই সংগ্রামী তরুণ। বর্তমানে তিনি স্বনামধন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। পড়াশোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের মতো একটি সেবামূলক কাজের সঙ্গে তার এই সম্পৃক্ততা এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে এবং তাকে এলাকার অন্য তরুণদের কাছে একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
নিজের এই পথচলা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মো. সোহেল জানান, মদনপুর আলোর পাঠশালা তার শিক্ষাজীবনের একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। জীবনসংগ্রাম যতই কঠিন হোক না কেন, মানুষের মনে যদি প্রবল ধৈর্য ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকে তবে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তাছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে কাজ করার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় কোনো সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।