উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় ডেস্ক: শারীরিক উচ্চতা মাত্র তিন ফুট হলেও মনের জোরে বিশাল স্বপ্নের পথে হেঁটে চলেছেন আলমিনা হাসদা। দিনাজপুরের টিকরামপুর গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের এই কিশোরী জীবনের শুরু থেকেই নানা সামাজিক কটূক্তি ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন। সমাজের নানা প্রান্তে তার এই শারীরিক গঠন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হলেও তিনি কখনো নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বরং সব বাধা ডিঙিয়ে তিনি নিজেকে একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে অতীতে একটি সার্কাসের দল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আলমিনাকে তাদের সঙ্গে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এমনকি অভাবের তাড়নায় তার পড়াশোনা যখন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনো সেই লোভনীয় প্রস্তাবের ফাঁদে পা দেননি তার অভিভাবক। হতদরিদ্র কৃষক বাবা লক্ষ্মী হাসদা ও মা সুখী মূর্মু সমস্ত প্রতিকূলতা আর অভাব জয় করে মেয়েকে সার্কাসে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অটল ছিলেন।
আলমিনার এই অনিশ্চিত ও কঠিন সময়ে তার পাশে ত্রাতা হিসেবে এসে দাঁড়ায় গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা। স্কুলটির শিক্ষকরা খোদ তার বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে বুঝিয়ে পড়াশোনার গুরুত্ব উপলব্ধি করান এবং তাকে পুনরায় শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনেন। শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হয়ে তিনি বর্তমানে নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হয়ে মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর স্বপ্ন দেখছেন।
মেয়ের এমন অভাবনীয় অগ্রযাত্রায় আবেগাপ্লুত হয়ে তার বাবা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্কুলটি না থাকলে হয়তো মেয়েকে শেষ পর্যন্ত সার্কাসেই পাঠাতে হতো বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ জানিয়েছেন যে আলমিনা অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মানুবর্তী একজন শিক্ষার্থী। তার এই অদম্য ইচ্ছা এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে বলে শিক্ষক সমাজ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।