উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অর্থনীতি ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদ থেকে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এই নির্দেশনাগুলো প্রদান করেন। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা সংবলিত চিঠি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ব্যাংকের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং এর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। শাখাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখতে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে জনবল বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে নির্দিষ্ট মডিউল প্রস্তুত করে দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ আদায়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। ঋণ আদায়ে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শাখাগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও অনাদায়ী ঋণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পুনঃতফসিল, অবলোপন কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা মাসভিত্তিক ভাগ করে দিয়ে মাঠকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করতে বলা হয়েছে। লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সেই ঘাটতি পরবর্তী মাসের সঙ্গে যুক্ত করার বিধান রেখে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকের তহবিল তছরুপ ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পর্ষদ কর্তৃপক্ষ। অভ্যাসগতভাবে অর্থ আত্মসাতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ সার্কুলার জারি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঋণ বিতরণ, লোন ট্র্যাকিং সিস্টেমের মনিটরিং এবং বিশেষায়িত অডিট কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের যথাযথ পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন যে, চেয়ারম্যানের দেওয়া এই নির্দেশনার আলোকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।