উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ডেস্ক রিপোর্ট: সংক্রামক রোগ, ভাইরোলজি এবং বায়োসিকিউরিটি নিয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরল এক সম্মান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার। আগামী ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা দেশের বিজ্ঞানচর্চার জন্য এক বিরাট গৌরবময় মুহূর্ত। এর আগে জাতিসংঘের বিশেষ ফেলোশিপ অর্জন করে তিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন। এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের ক্রমবর্ধমান দক্ষতারই এক জোরালো প্রমাণ।
ছোটবেলার অদম্য কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রবণতা থেকেই মারজানার বিজ্ঞানমনস্কতার বীজ রোপিত হয়েছিল। মানুষ কেন অসুস্থ হয় কিংবা রোগব্যাধি কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে—এমন সব মৌলিক প্রশ্ন তাকে ভাবিয়ে তুলত এবং পরিবার থেকেও তিনি সবসময় এ বিষয়ে উৎসাহ পেয়েছিলেন। বড় হওয়ার সাথে সাথে তিনি অনুধাবন করতে পারেন যে, জনস্বাস্থ্য এবং সংক্রামক রোগের মতো বিষয়গুলো কেবল গবেষণাগারের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়। বরং এগুলো সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তার এই অ্যাকাডেমিক যাত্রায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি মনে করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বিজ্ঞানকে বিশ্লেষণ করতে এবং প্রমাণভিত্তিক সত্য খুঁজতে শিখিয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করার সুবাদে তার গবেষণাজীবনে নতুন মোড় আসে। এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুবাদেই মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্যকে একই সুতোয় বাঁধার ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা তার ভবিষ্যৎ গবেষণার পথকে প্রশস্ত করে।
মারজানা তার এই সাফল্যকে কেবল নিজের কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে দেশের তরুণ গবেষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেন। তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো এমন সব গবেষণায় অবদান রাখা যা কেবল বৈজ্ঞানিক জার্নালে আটকে না থেকে সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, স্বপ্নের পরিধি ছোট না করে সততা ও পরিশ্রমের সাথে এগিয়ে গেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সফল হওয়া সম্ভব। তার এই অর্জন বাংলাদেশের বিজ্ঞানপ্রেমী তরুণদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও নতুন সম্ভাবনার এক অভূতপূর্ব দিগন্ত উন্মোচন করেছে।