উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ আবুল খায়ের লিটুর নেতৃত্বাধীন বেঙ্গল গ্রুপের ছয়টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের নামে বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংকে বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ জমা হয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা এবং এর সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৬৯ কোটি টাকার বেশি স্থগিত সুদ। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির কাছে এই শিল্পগোষ্ঠীর আটকে থাকা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। দীর্ঘদিন ধরে কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গল গ্রুপের যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভেসটেল ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কস, বেঙ্গল কমিউনিকেশন এবং প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছেই ব্যাংকের পাওনা ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বায়ার মিডিয়া, সুইটস অব বেঙ্গল এবং বেটার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নামেও শত শত কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিভিন্ন সময়ে মোট প্রায় ১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে সুদ জমে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ বিতরণের সময় গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও যথাযথ জামানত মূল্যায়ন না করার কারণে এই ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময়ে আর্থিক খাতের প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল, যেখানে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি ছিল। এর বিপরীতে জামানত হিসেবে মাত্র ৫২৩ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে, যা মোট ঋণের তুলনায় যথেষ্ট কম। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেঙ্গল গ্রুপ বিশেষ ব্যবস্থায় ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করেছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ সাপেক্ষে তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু দাবি করেছেন যে ব্যাংকের দেখানো হিসাবের চেয়ে তাদের প্রকৃত দায় অনেক কম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৫০ কোটি টাকার মতো এবং তারা ইতিমধ্যে ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জমা পড়া সেই টাকা মূল ঋণের বিপরীতে সমন্বয় না করে সুদের খাতে কেটে নেওয়ায় চক্রবৃদ্ধি হারে দায় বেড়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে দীর্ঘদিন ব্যবসা করতে না পারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জামানত থাকার পরও ব্যবসা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল।