উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ ধরনের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে পূজামণ্ডপ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে বলে তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে দেশের সব পুলিশ ইউনিটে এ সংক্রান্ত বিশেষ সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সব পুলিশ সদস্যের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাতে যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা পূজার সময় হামলা চালিয়ে সেই ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ তৈরি করার জন্য এই নাশকতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তথ্যও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। বিগত বছরগুলোতেও একই সময়ে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পূজা উদযাপনের সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি, বক্তব্য বা দাবি উপস্থাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল যেন সুযোগ হিসেবে ব্যবহার হতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি বছর সারা দেশে প্রায় তেত্রিশ হাজার পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হবে যার মধ্যে চার হাজারের বেশি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, নিষিদ্ধছাত্রলীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মীকে পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিজস্ব জেনারেটর এবং দিন-রাত পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে বিটিআরসি ও এনটিএমসির সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। মূর্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার পাশে বা অরক্ষিত স্থানে প্রতিমা রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মসজিদ কিংবা মাদ্রাসার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত মণ্ডপগুলোতে নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পূজার পবিত্রতা রক্ষার্থে মণ্ডপের আশপাশে কোনো ধরনের মেলা বসতে দেওয়া হবে না যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা মাদকের আড্ডা তৈরি হতে না পারে। গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।