উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার। সারা দেশে অন্তত আটটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা হাবকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় এজেন্ট ও সুপার এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালিত এই জুয়া চক্রের মূল হোতারা চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে জোট বেঁধে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন এবং হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশ থেকে বিশাল অংকের অর্থ পাচার করে চলেছেন। অপরাধ দমনে গঠিত পুলিশের নতুন সাইবার ইউনিটগুলো এই কার্যক্রম তদারকিতে মাঠে নামলেও মাস্টারমাইন্ডদের নাগাল পাওয়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর, নড়াইলের কালিয়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুড়িগ্রামের রৌমারী-ভূরুঙ্গামারী, নরসিংদীর মাধবদী, নাটোরের লালপুর, গাজীপুরের টঙ্গী এবং কক্সবাজার সদর এলাকা অনলাইন জুয়ার বড় হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। এসব অঞ্চলের এজেন্টরা যোগাযোগের জন্য প্রধানত টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন, যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা যায়। বিদেশি ভাষা থেকে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে বার্তা আদান-প্রদান করে দেশীয় এজেন্টরা জুয়ার কার্যক্রম সচল রাখছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে মাঠপর্যায়ের কিছু এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরকে আটক করতে সক্ষম হলেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বিশেষ করে মেহেরপুরের মুজিবনগর এলাকাকে অনলাইন জুয়ার অন্যতম প্রধান রাজধানী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই অঞ্চলে জুয়ার জাল ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে গড়ে ওঠা এই অবৈধ কারবারে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল কিংবা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর মতো অঞ্চলেও সাধারণ কর্মী বা শিক্ষার্থীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই জুয়া বর্তমানে গ্রামগঞ্জে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লোভের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় খুনোখুনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিআইডি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও সহজে ধনী হওয়ার প্রলোভনে পড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অনলাইন জুয়ার সাইট ও অ্যাপে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এই অবৈধ লেনদেনের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হুন্ডি ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করার কথা ভাবছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মাঠপর্যায়ের খুচরা এজেন্টদের গ্রেপ্তার করলেই এই অপরাধ থামবে না, বরং এর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে।