উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযানে নিহত হওয়া ১৭০ জন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা ইসরাইল চালাচ্ছে, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নাকচ করে দিয়েছে জাতিসংঘ। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সম্প্রতি এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিহত সংবাদকর্মীরা সামরিক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন—এমন কোনো যৌক্তিক বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। জাতিসংঘ এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে।
এর আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতির মাধ্যমে দাবি করেছিল যে, গাজায় নিহত যেসব ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন, তারা প্রকৃতপক্ষে হামাস, ইসলামিক জিহাদ কিংবা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নিজেদের এই বিতর্কিত দাবির পক্ষে তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথাও উল্লেখ করে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা শুরু থেকেই এই ইসরাইলি দাবির সত্যতা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করে আসছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সেসকা আলবানিজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাংবাদিকরা যুদ্ধের ময়দানে কোনো ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন—এর সপক্ষে তাদের কাছে ‘শূন্য’ বা এক টুকরো প্রমাণও নেই। তিনি খুব দ্রুতই এই পুরো বিষয়টির ওপর একটি বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মতে, গাজায় সংঘটিত অপরাধ ও মানবিক বিপর্যয়ের দায় এড়াতেই ইসরাইল সুপরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের চরিত্রহনন করার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদক আরও অভিযোগ করেন যে, যখন বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে শুরু করেছে, তখন ইসরাইল তাদের অপপ্রচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার দাবি, বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের চালানো আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভেতরে একটি বিশেষ দল বা 'লেজিটিমাইজেশন সেল' সক্রিয় রয়েছে। এই সেলটি প্রতিনিয়ত মনগড়া গল্প ও মিথ্যা তথ্য তৈরি করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যা তার আসন্ন প্রতিবেদনে উন্মোচন করা হবে।